বং হান্ট: বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হচ্ছে ভোটার নিবিড় সংশোধনের কাজ বা এসআইআর (SIR)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামীকাল থেকেই রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এবার কিছু নাগরিকদের জন্য থাকছে বড় স্বস্তির খবর — তাদের কোনও অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে না।
আগামীকাল থেকেই শুরু বাংলায় এসআইআর
সোমবার নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে মোট ১২টি রাজ্যে একসঙ্গে শুরু হবে এসআইআর প্রক্রিয়া। এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, কেরল, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া এবং মধ্যপ্রদেশ। পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আন্দামান-নিকোবর, লাক্ষাদ্বীপ ও পুদুচেরিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম দেবেন। নাগরিকদের সেই ফর্ম পূরণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
কারা পাবেন ছাড়?
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাদের নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় ছিল, তাদের কোনও অতিরিক্ত নথি দিতে হবে না। এমনকি কারও নিজের নাম তালিকায় না থাকলেও, যদি বাবা বা মায়ের নাম সেই তালিকায় থাকে, তাহলেও আলাদা করে কাগজ জমা দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলেই হবে।
কীভাবে হবে যাচাই প্রক্রিয়া?
বুথ লেভেল অফিসাররা যখন ভোটারদের কাছে গিয়ে ফর্ম বিতরণ করবেন, তখন তারা যাচাই করবেন ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে কিনা। যদি থাকে, তাহলে অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি না থাকে, তাহলে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য বাবা-মায়ের নাম খুঁজে দেখা হবে।
যদি সেটিও সম্ভব না হয়, তাহলে কমিশনের নির্ধারিত ১১টি বৈধ নথির যে কোনও একটি জমা দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ১১টি বৈধ নথি
- কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের চাকরির পরিচয়পত্র বা পেনশন সংক্রান্ত নথি
- প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্টার
- জন্ম সনদ
- জমি বা বাড়ির দলিল
- পাসপোর্ট
- ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা এলআইসির নথি
- মাধ্যমিক বা উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট
- রাজ্য সরকারের দেওয়া বাসস্থান সংক্রান্ত সার্টিফিকেট
- ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট
- জাতিগত সার্টিফিকেট
- নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্টার সার্টিফিকেট
আধার কার্ডের ভূমিকা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, পরিচয় প্রমাণের ক্ষেত্রে আধার কার্ড দেখানো যাবে, তবে নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা যাবে না। আধারের পাশাপাশি উপরোক্ত ১১টি নথির যে কোনও একটি দিতে হবে।
তবে কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, যদি এই তালিকার বাইরে কোনও বৈধ নথি নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়, তাহলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে।
উপসংহার
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নাগরিকদের আর নতুন করে কোনও কাগজ জমা দিতে হবে না। এতে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।












