বং হান্ট: ভারতের কিছু রাজ্য বর্তমানে ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ ঋণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অফিসের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, তেলুগুভাষী রাজ্যগুলি ঋণে সবচেয়ে বিপুল। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ প্রথম এবং তেলেঙ্গানা দ্বিতীয় স্থানে।
ঋণের পরিসংখ্যান
রিপোর্টে বলা হয়েছে:
- অন্ধ্রপ্রদেশ: ৪৩.৭% মানুষ ঋণে জর্জরিত।
- তেলেঙ্গানা: ৩৭.২% মানুষ ঋণে।
- কেরালা: ২৯.৯%
- তামিলনাড়ু: ২৯.৪%
- কর্ণাটক: ২৩%
- দিল্লি: ৩.২%
- ছত্তিশগড়: ৬.৫%
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি ঋণে শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও, উত্তর ভারতের কিছু উন্নত রাজ্যও ঋণের বোঝায় পিছিয়ে নেই।
ঋণ বৃদ্ধির কারণ
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বাজেটজনিত চাপের কারণে রাজ্যগুলোর ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজ্যগুলোর সরকারি খরচ বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা মূল কারণ। গত ছয় বছরে ভারতের রাজ্যগুলির ঋণ প্রায় ৭৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
শীর্ষ ১০ ঋণগ্রস্ত রাজ্য (২০২৪)
- তামিলনাড়ু: ৮.৩ লক্ষ কোটি টাকা
- উত্তরপ্রদেশ: ৭.৭ লক্ষ কোটি টাকা
- মহারাষ্ট্র: ৭.২ লক্ষ কোটি টাকা
- পশ্চিমবঙ্গ: ৬.৬ লক্ষ কোটি টাকা
- কর্ণাটক: ৬.০ লক্ষ কোটি টাকা
- রাজস্থান: ৫.৬ লক্ষ কোটি টাকা
- অন্ধ্রপ্রদেশ: ৪.৯ লক্ষ কোটি টাকা
- গুজরাট: ৪.৭ লক্ষ কোটি টাকা
- কেরালা: ৪.৩ লক্ষ কোটি টাকা
- মধ্যপ্রদেশ: ৪.২ লক্ষ কোটি টাকা
পশ্চিমবঙ্গের ঋণ পরিস্থিতি
পশ্চিমবঙ্গ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ২৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ফলে মোট ঋণ দাঁড়াবে ৭৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ মাসে গোটা বছরের ঋণ ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়তে পারে।
পরামর্শ
- রাজ্যগুলিকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হবে, না হলে ঋণের পরিমাণ বাড়তেই থাকবে।
- জনসাধারণের জন্য আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
উপসংহার
অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা ঋণে শীর্ষে থাকলেও, অন্যান্য রাজ্যগুলোর পরিস্থিতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের ঋণ বাড়তে থাকা সতর্কবার্তা দেয়। রাজ্যগুলোকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হবে, না হলে ঋণের চাপ আরও বাড়বে। নাগরিকদের জন্যও আর্থিক সচেতন হওয়া জরুরি।











