বং হান্ট: মহারাষ্ট্র থেকে উঠে এল ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো এক বিশাল বৃত্তাকার গোলকধাঁধার (Labyrinth) সন্ধান মিলেছে সোলাপুর জেলার বরামানি ঘাসভূমিতে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এটি সম্ভবত ভারতের এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় পাথরের তৈরি গোলকধাঁধা। এই আবিষ্কার ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
কোথায় মিলল এই প্রাচীন গোলকধাঁধা?
এই রহস্যময় কাঠামোটি পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার বরামানি তৃণভূমি এলাকায়। স্থানীয় একটি পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা ‘ন্যাচার কনসারভেশন সার্কেল’-এর সদস্যরা বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণের সময় প্রথম এই অদ্ভুত পাথরের গঠন চোখে পড়ে। পরে বিষয়টি জানানো হয় প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের।
গোলকধাঁধার গঠন ও আকার
পুনের ডেকান কলেজের প্রত্নতত্ত্ববিদ সচিন পাটিল এই গোলকধাঁধাটি খতিয়ে দেখেন। তাঁর মতে, এই কাঠামোটির মোট আয়তন প্রায় ৫০ ফুট বাই ৫০ ফুট। এর ভেতরে রয়েছে মোট ১৫টি বৃত্তাকার চক্র, যা নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে পাথর সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক গবেষণায় অনুমান করা হচ্ছে, এটি প্রায় ২০০০ বছরেরও বেশি পুরনো।
কেন এই গোলকধাঁধা এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই গোলকধাঁধার অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে প্রাচীনকালে বরামানি অঞ্চল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সচিন পাটিলের মতে, এই এলাকা রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগের অন্যতম হাব ছিল। তখন এখান থেকে সোনা, মদ ও মূল্যবান অলংকার রফতানি হত, আর তার বদলে মসলা ও রং জাতীয় সামগ্রী আমদানি করা হতো।
গ্রেকো-রোমান যুগের যোগসূত্র
ডেকান কলেজের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান পি. ডি. সাবালে জানিয়েছেন, কল্যাপুর, করাদ ও টের অঞ্চলেও অতীতে বিদেশি বাণিজ্যের বহু নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। এই এলাকাগুলিতে গ্রেকো-রোমান যুগের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ মিলেছে, যা ভারতের প্রাচীন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসকে আরও স্পষ্ট করে।
আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পাচ্ছে আবিষ্কার
এই আবিষ্কার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক গবেষকদের নজর কেড়েছে। জানা গিয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত গবেষণা জার্নাল Caerdroia-এর ২০২৬ সালের সংস্করণে এই গোলকধাঁধা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
চক্রবিউহের সঙ্গে মিল
Caerdroia জার্নালের সম্পাদক ও গবেষক জেফ সাওয়ার্ড জানিয়েছেন, এই গোলকধাঁধাটি দেখতে ইউরোপের ক্লাসিক্যাল গোলকধাঁধার মতো হলেও এর কেন্দ্রের ঘূর্ণায়মান অংশটি সম্পূর্ণ ভারতীয় বৈশিষ্ট্যের। এই নকশাকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘চক্রবিউহ’ নামে চিহ্নিত করা হয়।
উপসংহার
মহারাষ্ট্রে আবিষ্কৃত এই ২০০০ বছরের পুরনো গোলকধাঁধা শুধুমাত্র একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, বরং এটি প্রাচীন ভারতের বাণিজ্য, শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে ভারতীয় ইতিহাস ও সভ্যতা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে বড় ভূমিকা নেবে।













