বং হান্ট: পৌষ মাস শুরু হতেই শীতপ্রেমীদের মুখে ভাঁজ। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ চললেও এখনও সেই চেনা কনকনে ঠান্ডার দেখা নেই রাজ্যে। বরং বড়দিন যত এগোচ্ছে, ততই হতাশা বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, বড়দিনেও বাংলায় জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা কম। একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আপাতত শীত কার্যত গা ঢাকা দিয়েছে।
কেন কমছে শীত? কী বলছে আবহাওয়া দপ্তর
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় রয়েছে একাধিক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। জম্মু-কাশ্মীর সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় ঘূর্ণাবর্তের পাশাপাশি নতুন করে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরান সংলগ্ন অঞ্চলেও তৈরি হয়েছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এই সমস্ত আবহাওয়াগত পরিবর্তনের ফলেই উত্তুরে হাওয়ার প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলার আবহাওয়ায়। ফলে উত্তর থেকে দক্ষিণ—বেশিরভাগ জেলাতেই শীতের দাপট অনেকটাই কমে গিয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, শনিবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে হালকা শীতের অনুভূতি থাকলেও দিনভর ঠান্ডা প্রায় টের পাওয়া যাবে না। সকাল ও সন্ধ্যায় যে সামান্য শীত অনুভূত হতো, সেটিও অনেকটাই কমে আসবে। উইকেন্ডে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রার পূর্বাভাস
- আগামী পাঁচ দিনে জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই
- পশ্চিমের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা থাকতে পারে
- ঘন কুয়াশার কোনও সতর্কতা জারি হয়নি
উত্তরবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া
উত্তরবঙ্গেও ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা কমছে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করবে। আগামী এক সপ্তাহে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
উত্তরবঙ্গের জেলাভিত্তিক পরিস্থিতি
- দার্জিলিং ও পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- উত্তরের পাঁচ জেলায় তাপমাত্রা থাকবে ৯ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে
- পার্বত্য ও সংলগ্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার দাপট থাকবে
বড়দিনে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বড়দিনের সময়েও রাজ্যে শীতের বড় কোনও স্পেল দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দিনের বেলায় উষ্ণতা কিছুটা বাড়বে, যদিও সকাল ও রাতে সামান্য ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। তবে আপাতত শৈত্যপ্রবাহ বা কনকনে ঠান্ডার কোনও পূর্বাভাস নেই।
উপসংহার
সব মিলিয়ে বলা যায়, পৌষের শুরুতে শীত কিছুটা ধাক্কা খেলেও বড়দিনে সেই চেনা কনকনে ঠান্ডার দেখা পাওয়া কঠিন। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কাটলেই হয়তো শীত আবার জোরালো হবে। তবে তার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে বাংলার শীতপ্রেমীদের।













