গত ৫ বছরে দেশে বন্ধ হয়েছে ২ লক্ষের বেশি প্রাইভেট কোম্পানি! লোকসভায় সরকারের চমকপ্রদ রিপোর্ট

Bong Hunt Favicon
On: December 3, 2025 8:18 PM
Follow Us:
গত ৫ বছরে দেশে বন্ধ হয়েছে ২ লক্ষের বেশি প্রাইভেট কোম্পানি! লোকসভায় সরকারের চমকপ্রদ রিপোর্ট

বং হান্ট: দেশের চাকরির বাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের দেওয়া সর্বশেষ রিপোর্ট জানাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে দেশে ২ লক্ষের বেশি বেসরকারি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের উপর বড় প্রভাব পড়েছে এবং বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

সরকারি রিপোর্টে বড় তথ্য

লোকসভায় কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা যে রিপোর্ট পেশ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ২,০৪,২৬৮টি প্রাইভেট কোম্পানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

কেন বন্ধ হয়েছে এত কোম্পানি?

রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে—

  • কোম্পানির একত্রীকরণ
  • রূপান্তর বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া
  • স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • ২০১৩ সালের কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী রেকর্ড থেকে বাদ পড়া

বছরভিত্তিক কোম্পানি বন্ধের সংখ্যা

রিপোর্ট অনুযায়ী—

  • ২০২০-২১: ১৫,২১৬টি কোম্পানি বন্ধ
  • ২০২১-২২: ৬৪,০৫৪টি কোম্পানি বন্ধ
  • ২০২২-২৩: ৮৩,৪৫২টি কোম্পানি বন্ধ
  • ২০২৩-২৪: ২১,১৮১টি কোম্পানি বন্ধ
  • ২০২৪-২৫ (১৬ জুলাই পর্যন্ত): ২০,৬৩৫টি কোম্পানি বন্ধ

এছাড়াও, এই সময়ের মধ্যে মোট ১,৮৫,৩৫০টি কোম্পানিকে সরকার স্থায়ীভাবে রেকর্ড থেকে বাদ দিয়েছে, যার মধ্যে ৮,৬৪৮টি কোম্পানি শুধু ২০২৪-২৫ সালের প্রথম কয়েক মাসেই অপসারিত হয়েছে।

কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলল সরকার?

কর্মচারী পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা জানান, সরকার এই সংস্থাগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে “স্বাভাবিক ব্যবসায়িক চক্রের অংশ” হিসেবে দেখে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য কোনও বিশেষ তহবিল বা পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেই।

শ্রম বাজারে কী প্রভাব পড়বে?

মন্ত্রী দাবি করেছেন, এই নিষ্ক্রিয় বা সন্দেহজনক সংস্থাগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রম বাজার আরও স্বচ্ছ হবে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক কোম্পানি বন্ধ হওয়া দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা।

শেল কোম্পানি নিয়ে উদ্বেগ

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক কোম্পানি অবৈধ আর্থিক কারবার বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। যদিও “শেল কোম্পানি” শব্দটি কোম্পানি আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংজ্ঞায়িত নয়, তবুও সন্দেহভাজন সংস্থাগুলিকে ইডি ও আয়কর বিভাগের তদন্তে পাঠানো হয়।

২০২২-২৩ সালে সবচেয়ে বেশি কোম্পানি কেন বন্ধ হয়েছে?

রিপোর্ট বলছে, এমসিএ-র (কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক) “ধর্মঘট অভিযান” বা স্ট্রাইক-অফ প্রক্রিয়ার কারণে ওই বছরে সর্বাধিক কোম্পানি বন্ধ হয়েছে।

উপসংহার

সরকারি রিপোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে—ভারতের কর্পোরেট খাতে গত পাঁচ বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। বিপুল সংখ্যক কোম্পানি বন্ধ হওয়ার ফলে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ বাড়ছে, আবার একইসঙ্গে বাজারে ভুয়ো বা নিষ্ক্রিয় সংস্থা কমে স্বচ্ছতা বাড়ছে। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের চাকরি বাজারের এই ছবি উদ্বেগজনক, এবং ভবিষ্যতে এই ট্রেন্ড অর্থনীতির উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Comment