বং হান্ট: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে নতুন সাফল্যের ইঙ্গিত। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলিকে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল রফতানির জন্য নয়াদিল্লি প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির খুব কাছে পৌঁছে গেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন ইতিমধ্যেই মিলেছে, আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ব্রহ্মোস রফতানিতে আগ্রহ কেন বাড়ছে?
ডিআরডিও এবং রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রহ্মোস মিসাইল অপারেশন সিঁদুরের সময় তার নির্ভুলতা ও শক্তির পরিচয় দেয়। পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে করা হামলায় ব্রহ্মোসের সফল ব্যবহার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় নজর কাড়ে।
মানি কন্ট্রোলের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একাধিক চুক্তি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুবাই এয়ারশোতেও ব্রহ্মোস উপস্থাপিত হলে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পাওয়া যায়।
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে আরও আধুনিকীকরণ
অপারেশন সিঁদুরের সফলতার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নৌ-বাহিনী, বিমান-বাহিনী এবং স্থল-ভিত্তিক বাহিনীর জন্য আরও বড় আধুনিকীকরণ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে।
নৌবাহিনীতে ব্রহ্মোস মোতায়েন
ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধজাহাজে ব্রহ্মোস স্থাপনের পরিকল্পনা এগোচ্ছে। এর ফলে সমুদ্র নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
বিমানবাহিনীতে উন্নত সংস্করণ
Su-30MKI যুদ্ধবিমানে ব্রহ্মোসের উন্নত সংস্করণ সংযোজনের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতীয় অস্ত্রব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন।
কেন বিশ্বে বাড়ছে ব্রহ্মোসের চাহিদা?
অপারেশন সিঁদুরের সময় জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভারতের আক্রমণে ব্রহ্মোস ছিল প্রধান স্ট্রাইক অস্ত্র।
এই মিসাইলের গতি, নির্ভুলতা এবং কম সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য আরও বাড়িয়েছে। তাই এখন বিভিন্ন দেশ ব্রহ্মোস কেনার ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এই চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হবে?
সবকিছু ঠিক থাকলে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের ব্রহ্মোস রফতানি চুক্তি খুব শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে এটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
উপসংহার
ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল আজ ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। অপারেশন সিঁদুরের সময় এর সাফল্য আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়েছে। যদি ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের রফতানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাবে।












