বং হান্ট: ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নোঙর করেছে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ পিএনএস সইফ। তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন পাক নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ সহ বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের নৌসেনা প্রধান
Deccan Chronicle-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ পিএনএস সইফ। সঙ্গে রয়েছেন পাক নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। তিন দিনের এই সফরে তিনি বাংলাদেশের নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ঢাকায় পৌঁছে পাক নৌসেনা প্রধানকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। সফর শেষে ১২ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানে ফিরে যাবে যুদ্ধজাহাজটি ও তার কর্মকর্তারা।
বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য কী?
বাংলাদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের আগমন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—আচমকা এই সফরের উদ্দেশ্য কী? অনেকেই মনে করছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে। যদিও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, এটি শুধুমাত্র “সৌজন্য সাক্ষাৎ”।
তবুও কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে যখন ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত শীতল অবস্থায় রয়েছে।
কী নিয়ে আলোচনা হলো দুই দেশের মধ্যে?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই দেশের নৌবাহিনীর প্রধানদের মধ্যে পেশাগত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ বিনিময় নিয়েও কথা হয়েছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানি নৌসেনা প্রধান বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও এক বৈঠক করেছেন, যেখানে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভারতের নজর চট্টগ্রামের দিকে
ভারতের কূটনৈতিক মহলে এই সফর নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের বাংলাদেশ সফরকে ভারতের জন্য একটি “কৌশলগত সতর্কবার্তা” হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতকে আরও সজাগ করে তুলেছে।
নয়াদিল্লির উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার পূর্ব সীমান্তে চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সেখানে পাকিস্তানি উপস্থিতি ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থে উদ্বেগজনক হতে পারে। বর্তমানে ভারত সরকারের তরফে এ বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশে পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও দুই দেশই এটিকে সৌজন্য সফর বলে দাবি করছে, তবুও কূটনৈতিক মহল এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ভারতের দৃষ্টিতে এটি শুধু একটি সফর নয়, বরং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক ভারসাম্যের পূর্বাভাসও হতে পারে।














