হরিয়ানায় জমি খননে মিলল ‘শ্রী রাম’ খোদাই করা ভাসমান পাথর ও মূর্তি! ইতিহাসের সাক্ষী সৌন্দা গ্রাম
বং হান্ট: হরিয়ানার সৌন্দা গ্রামে এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার সামনে এল। জমি খননের সময় এক ভাসমান পাথরে খোদাই করা ছিল ‘শ্রী রাম’ নাম। পাশাপাশি মাটির নিচ থেকে পাওয়া গেল ধাতব মূর্তি, যা একটি লাল কাপড়ে মোড়ানো ছিল। ভিডিওটি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা ও জল্পনা।
খননকার্যে আবিষ্কৃত ঐতিহাসিক নিদর্শন
লক্ষীনগরের রাজরানী নামের এক বাসিন্দা তাঁর নিজস্ব জমিতে বাড়ি তৈরি করছিলেন। নির্মাণ কাজের জন্য আনা হয়েছিল জেসিবি ও বুলডোজার। খননের মাঝেই শ্রমিকরা একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পান—একটি ভাসমান পাথরে স্পষ্টভাবে লেখা ‘শ্রী রাম’, এবং তার পাশেই লাল কাপড়ে মোড়া কয়েকটি ধাতব মূর্তি।
মূর্তিগুলির বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, কাপড়ের ভেতরে পাওয়া যায় খাটু শ্যাম, হনুমান ও লাড্ডু গোপালের মূর্তি। ঘটনাটি জানার পর জমির মালিক দ্রুত সেখানে পৌঁছান এবং অবিলম্বে খনন কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও মন্দির নির্মাণের দাবি
শ্রমিক ও স্থানীয়রা বলেন, যেহেতু এমন পবিত্র নিদর্শন পাওয়া গেছে, তাই প্রথমে এখানে একটি মন্দির স্থাপন করা উচিত। ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দিনটি ছিল একাদশী এবং খাটু শ্যামের জন্মদিন। সেই থেকেই গ্রামবাসীরা সেখানে ভজন-কীর্তন ও মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ শুরু করেছেন।
অযোধ্যার ইতিহাসের প্রতিধ্বনি
এই আবিষ্কার অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে অযোধ্যার রাম জন্মভূমির ইতিহাস। সেখানেও খননের সময় প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই দাবি করেছিলেন যে, বাবরি মসজিদের নিচে প্রাচীন মন্দিরের প্রমাণ মিলেছিল। পরবর্তীতে সেখানেই গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক রাম মন্দির।
ঘটনার তাৎপর্য
হরিয়ানার সৌন্দা গ্রামের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, ভারতের মাটিতে ইতিহাসের কত অজানা অধ্যায় লুকিয়ে আছে। স্থানীয় প্রশাসনও এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, যাতে এই নিদর্শনগুলি সংরক্ষণ করা যায়।
উপসংহার
সৌন্দা গ্রামের এই ঐতিহাসিক আবিষ্কার কেবল ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘শ্রী রাম’ লেখা ভাসমান পাথর এবং প্রাচীন মূর্তিগুলি আমাদের অতীতের এক অমূল্য সাক্ষ্য হয়ে রইল। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এই আবিষ্কারের উপর কী পদক্ষেপ নেয়।











