স্কুলে নিষিদ্ধ হোক ‘বন্দে মাতরম’! সরকারের কাছে দাবি কাশ্মীরের মুসলিম সংগঠনের

Bong Hunt Favicon
On: November 6, 2025 7:33 PM
Follow Us:
স্কুলে নিষিদ্ধ হোক ‘বন্দে মাতরম’! সরকারের কাছে দাবি কাশ্মীরের মুসলিম সংগঠনের

বং হান্ট: জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন মুত্তাহিদা মজলিস-ই-উলেমা (MMU) এবার সরকারের কাছে স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বাধ্যতামূলক আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, জাতীয় সংগীতের কিছু অংশ ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং তা মুসলিম ছাত্রদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে।

‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ইসলাম বিরোধী, দাবি সংগঠনের

সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলাম এমন কোনও কাজের অনুমতি দেয় না যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর প্রতি উপাসনা বা শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়। তাদের বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’ গানে এমন কিছু অংশ রয়েছে যেখানে মাতৃভূমিকে দেবীর রূপে পূজা করা হয়েছে — যা ইসলামের মূল বিশ্বাসের বিপরীতে যায়।

সংগঠনের মতে, মুসলমানরা তাদের দেশকে ভালোবাসে ও সেবা করতে চায়, তবে তাদের সেই ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত সমাজে অবদান, করুণা ও মানবসেবার মাধ্যমে — কোনও ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়।

সরকারের নির্দেশ নিয়ে অসন্তোষ

মুত্তাহিদা মজলিস-ই-উলেমা জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর সরকারের সংস্কৃতি দফতরের জারি করা নির্দেশিকাটি তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কারণ। তারা অভিযোগ তুলেছে, সাংস্কৃতিক উৎসবের নামে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ মুসলিম অঞ্চলে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রশাসনের কাছে দাবি

সংগঠনটি লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিং ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যেন কোনও ছাত্র বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী কাজে বাধ্য করা না হয়। তারা চায়, অবিলম্বে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার জবরদস্তিমূলক নির্দেশ প্রত্যাহার করা হোক।

পুরনো বিতর্ক আবারও মাথা তুলল

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ সরকার গানটি নিষিদ্ধ করেছিল। পরে স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহারাষ্ট্র ও জম্মু-কাশ্মীরের মতো রাজ্যগুলোতে এই গান বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিতর্কের সর্বশেষ উদাহরণ হল এমএমইউ-র এই দাবি — যা আবারও ধর্ম ও দেশপ্রেমের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

উপসংহার

কাশ্মীরের এই ঘটনাটি দেখায়, ‘বন্দে মাতরম’ শুধুমাত্র একটি দেশপ্রেমের গান নয়, বরং তা এখনও দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে সামনে নিয়ে আসে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment