মাত্র ১৫০০ জনের গ্রামে তিন মাসে ২৭ হাজারের বেশি জন্ম! মহারাষ্ট্রে নথি জালিয়াতি নিয়ে তোলপাড়

Bong Hunt Favicon
On: December 19, 2025 7:53 PM
Follow Us:
মাত্র ১৫০০ জনের গ্রামে তিন মাসে ২৭ হাজারের বেশি জন্ম! মহারাষ্ট্রে নথি জালিয়াতি নিয়ে তোলপাড়

বং হান্ট: সামনেই পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন, দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই মহারাষ্ট্র থেকে সামনে এল এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সরকারি নথি অনুযায়ী যেখানে একটি গ্রামের মোট জনসংখ্যা মাত্র ১৫০০ জন, সেখানে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নথিভুক্ত হয়েছে ২৭ হাজারের বেশি শিশুর জন্ম! এই আজব তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ইয়াবতমাল জেলার শেনদুরুসানি গ্রামে।

মাত্র তিন মাসে অস্বাভাবিক জন্মহার

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এই তিন মাসের জন্ম ও মৃত্যুর নথি যাচাই করতে গিয়েই প্রশাসনের চোখ কপালে ওঠে। দেখা যায়, আরনি তহসিলের অন্তর্গত শেনদুরুসানি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই সময়ে নথিভুক্ত হয়েছে মোট ২৭,৩৯৭টি জন্ম। অথচ সরকারি হিসেব অনুযায়ী গ্রামের মোট বাসিন্দা সংখ্যা মাত্র ১৫০০ জন। এই বিপুল গরমিল ঘিরেই শুরু হয় তদন্ত।

নথিতে ভিনরাজ্যের নাম, জড়াল বাংলাও

তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। নথিভুক্ত অধিকাংশ শিশুর নামের ঠিকানা নাকি পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রের একটি ছোট গ্রামে বসবাস না করেও হাজার হাজার নবজাতকের জন্ম সেখানে রেকর্ড করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, বিষয়টি শুধুমাত্র ভুল নয়, বরং বড়সড় জালিয়াতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

CRS ID অপব্যবহার করে সাইবার জালিয়াতি

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তির জন্য ব্যবহৃত CRS (Civil Registration System) ID অপব্যবহার করেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রাম পঞ্চায়েতের CRS লগইন আইডি হ্যাক করা হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই জালিয়াতি নাকি গ্রাম থেকে নয়, বহু দূরে মুম্বইতে বসেই করা হয়েছে।

কীভাবে সম্ভব হল এত বড় কারচুপি?

প্রশাসনের প্রশ্ন, কীভাবে একটি গ্রামের CRS ID ব্যবহার করে অন্য রাজ্যের হাজার হাজার জন্ম নথিভুক্ত করা সম্ভব হল? কেনই বা বাংলার ও উত্তরপ্রদেশের এত নাম এই গ্রামে যুক্ত করা হল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন জোরদার তদন্ত চলছে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইয়াবতমাল জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক সিটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক মন্দর পাতকি পঞ্চায়েত বিভাগের উপ-মুখ্য নির্বাহী আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

তদন্তে কী জানা গেল?

তদন্ত কমিটি সরেজমিনে শেনদুরুসানি গ্রাম পরিদর্শন করে জানিয়েছে, নথিভুক্ত ২৭,৩৯৭টি জন্ম এবং ৭টি মৃত্যুর কোনওটিই বাস্তবে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় পড়ে না। অর্থাৎ সব কটিই ভুয়ো নথি।

কোন ধারায় মামলা?

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় মামলা দায়ের হয়েছে। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এই ভুয়ো জন্ম নথি ব্যবহার করে অন্য কোনও বেআইনি কাজ করা হয়েছে কি না।

উপসংহার

মাত্র ১৫০০ জনের গ্রামে তিন মাসে ২৭ হাজারের বেশি শিশুর জন্ম—এই ঘটনা নিঃসন্দেহে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় প্রশ্ন তুলে দিল। সাইবার নিরাপত্তা ও সরকারি নথির সুরক্ষা কতটা মজবুত, তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন। তদন্তের ফলাফলেই স্পষ্ট হবে, এর পেছনে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এত বড় জালিয়াতি ঘটানো হয়েছে।

Leave a Comment