বং হান্ট: দেশের বড় বড় শহরে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক সিগন্যাল এখন বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লাল-সবুজ-হলুদ সিগন্যালের অপেক্ষা, লম্বা যানজট আর জ্বালানি অপচয়—সব মিলিয়ে শহুরে যাতায়াতে বাড়ছে দেরি ও ভোগান্তি। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্থানের কোটা শহর নতুন ইতিহাস গড়ল। চলতি মাসেই কোটা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের প্রথম ‘ট্রাফিক সিগন্যাল-ফ্রি সিটি’ হিসেবে ঘোষণা হল।
কোটা কীভাবে হয়ে উঠল দেশের প্রথম ‘ট্রাফিক সিগন্যাল-ফ্রি সিটি’?
এই রূপান্তরের মূল ভিত্তি হলো আধুনিক ডিজাইন ভিত্তিক আরবান মোবিলিটি। কোটার আরবান ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট গত কয়েক বছর ধরে পরিকল্পনা করে শহরের প্রধান প্রধান মোড়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।
স্মার্ট ক্রসিং ডিজাইনের ব্যবহার
ব্যস্ত ক্রসিংগুলোকে এমনভাবে বদলানো হয়েছে, যাতে যানবাহন সহজে ঘুরতে পারে এবং কোনও দিকেই ট্রাফিকের সংঘর্ষ না হয়। ফলে সিগন্যাল ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না।
বাইপাস রুটে যান চলাচলের চাপ কমানো
শহরের ভিড় কমাতে গাড়িকে বাইপাসের দিকে চালিত করা হচ্ছে, যাতে মূল শহরে যানজট কমে। সিগন্যালের বদলে দেওয়া হচ্ছে ঘূর্ণায়মান বা রাউন্ডআবাউট ট্রাফিক ব্যবস্থা।
পথচারীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা
ব্যস্ত সময়ে পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াতে সময় কমছে, জ্বালানির অপচয় কমছে, দূষণ কমছে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও হ্রাস পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটা মডেল ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থার বড় দিশা দেখাচ্ছে। তবে দিল্লি, কলকাতা বা মুম্বইয়ের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সম্পূর্ণ সিগন্যাল তুলে দেওয়া খুব কঠিন। সেখানে আংশিক সিগন্যাল বা স্মার্ট ট্রাফিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও উপযোগী হতে পারে।
অন্যান্য শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থার অবস্থা
ইন্দোরের এআই-চালিত ট্রাফিক সিস্টেম
দেশের পরিচ্ছন্নতম শহর ইন্দোর ইতিমধ্যেই এআই-ভিত্তিক স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবহার করছে। রিয়েল-টাইম ট্রাফিক দেখে সিগন্যাল বদলায়, নজরদারি করে এবং ভায়োলেশনও ধরতে পারে।
হায়দ্রাবাদের ফ্রি-লেফট সুবিধা
হায়দ্রাবাদের সব রাস্তা সিগন্যাল-ফ্রি না হলেও ফ্রি-লেফট বিধি শহরের যান চলাচল দ্রুত করেছে। এতে যানজট কমছে এবং সময়ও বাঁচছে।
এখন নজর সেদিকে—ভারতের আরও কোন শহর কোটা মডেল অনুসরণ করে সম্পূর্ণ সিগন্যাল-ফ্রি হওয়ার পথে হাঁটে।
উপসংহার
রাজস্থানের কোটা দেশের সামনে নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে। স্মার্ট পরিকল্পনা, আধুনিক ক্রসিং ডিজাইন এবং বৈজ্ঞানিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ফলে শহরটি এখন ভারতের প্রথম ‘ট্রাফিক সিগন্যাল-ফ্রি সিটি’। আগামী দিনে দেশের অন্য শহরও এই পথ অনুসরণ করলে যাতায়াত সহজ হবে, জ্বালানি খরচ কমবে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।












