বাংলাদেশে অস্থিরতার আবহে বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত প্রস্তুতি ভারতের, নজরে চিনও

Bong Hunt Favicon
On: December 20, 2025 9:35 PM
Follow Us:
বাংলাদেশে অস্থিরতার আবহে বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত প্রস্তুতি ভারতের, নজরে চিনও

বং হান্ট: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ফের অশান্তির ছায়া। প্রতিবেশী বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসা, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবরের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে বড় কৌশলগত প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিল ভারত। ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আকাশ-সমুদ্র এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ NOTAM জারি করা হয়েছে, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা।

ভারতীয় নৌবাহিনীর NOTAM জারি কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় নৌবাহিনী ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বরের জন্য বিশেষ NOTAM (Notice to Airmen) জারি করেছে। এই নোটিশ সাধারণত তখনই দেওয়া হয়, যখন কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় সামরিক মহড়া, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বড় কোনও কার্যকলাপ হতে চলেছে। ফলে ওই সময়ে বিমান ও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ইঙ্গিত

নোটিশে উল্লেখিত ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক থেকে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪৭০ কিলোমিটার থেকে ৬৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা নৌবাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের নাম জানায়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, এটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেমন K-4 বা অগ্নি সিরিজের কোনও উন্নত সংস্করণ হতে পারে।

কোথা থেকে হতে পারে উৎক্ষেপণ

বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ হতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছাকাছি এলাকা থেকে। সেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি বঙ্গোপসাগরের গভীর অঞ্চলে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে NOTAM জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও তার প্রভাব

এই সামরিক তৎপরতার সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সম্প্রতি বাংলাদেশে একের পর এক হিংসার ঘটনা সামনে এসেছে। ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও আগুন লাগানোর ঘটনা গোটা উপমহাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এই ঘটনার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

চিনের ভূমিকাও নজরে ভারতের

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই NOTAM শুধুমাত্র বাংলাদেশের পরিস্থিতির জন্য নয়, বরং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষিতেও গুরুত্বপূর্ণ। চিন ইতিমধ্যেই জিবুতি, পাকিস্তানের গোয়াদর ও শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটার বন্দরে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। অতীতে চিনা গবেষণা জাহাজ ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করায় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া

NOTAM জারির খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা বলে মনে করছেন। তাদের মতে, আঞ্চলিক অস্থিরতা থাকলেও ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সম্পূর্ণ সক্রিয় এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে বলা যায়, বঙ্গোপসাগরে এই সামরিক প্রস্তুতি শুধুমাত্র একটি নিয়মিত মহড়া নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের শক্ত অবস্থানেরই ইঙ্গিত। বাংলাদেশে চলমান অশান্তি ও চিনের কৌশলগত তৎপরতার মাঝে ভারত যে নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনওরকম আপস করছে না, এই NOTAM তারই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

Leave a Comment