বং হান্ট: প্রতিবেশী বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারত-বিরোধী বক্তব্যের আবহেই ভারতীয় নৌসেনার শক্তি আরও এক ধাপ বাড়ল। কলকাতা ভিত্তিক সংস্থা গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিল একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এই নতুন রণতরীর নাম রাখা হয়েছে ‘অঞ্জদীপ’, যা দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?
সম্প্রতি বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। পাশাপাশি কিছু মহল থেকে ভারতের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য ও হুমকি শোনা যাচ্ছে। এই আবহে ভারতীয় নৌসেনার হাতে নতুন শক্তিশালী রণতরী আসা নিঃসন্দেহে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন রণতরী ‘অঞ্জদীপ’ কোথায় ও কীভাবে হস্তান্তর হল?
চেন্নাই পোর্ট ট্রাস্টে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতীয় নৌসেনার হাতে এই যুদ্ধজাহাজটি তুলে দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল গৌতম মারওয়ার সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। এই রণতরীটি গার্ডেন রিচ এবং এল অ্যান্ড টি শিপইয়ার্ডের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে।
‘অঞ্জদীপ’ রণতরীর প্রধান বৈশিষ্ট্য
অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা
এই যুদ্ধজাহাজটি মূলত অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট (ASW SWC) শ্রেণির। অর্থাৎ, উপকূলবর্তী অগভীর জলে শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি।
আকার ও প্রযুক্তি
রণতরীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৭ মিটার। আধুনিক সেন্সর, উন্নত ন্যাভিগেশন সিস্টেম এবং শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজটি উপকূলীয় নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা নেবে।
দেশীয় প্রযুক্তির বড় সাফল্য
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে প্রায় ৮৮ শতাংশ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের একটি বড় সাফল্য বলেই ধরা হচ্ছে।
এর আগেও একাধিক যুদ্ধজাহাজ দিয়েছে গার্ডেন রিচ
এর আগে GRSE ভারতীয় নৌসেনার হাতে অর্ণলা, আন্দ্রথ সহ একাধিক অ্যান্টি সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ তুলে দিয়েছে। ২০২৫ সালে নৌবাহিনী পেয়েছে অ্যাডভান্স গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট ‘হিমগিরি’। নতুন করে ‘অঞ্জদীপ’ যুক্ত হওয়ায় এটি হয়ে উঠল এই সিরিজের চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ।
ভারতীয় নৌবাহিনীর আস্থার প্রতীক GRSE
এখনও পর্যন্ত গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স ভারতীয় নৌসেনাকে মোট ৭৭টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করেছে। নির্ধারিত সময় ও মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করায় ভবিষ্যতেও এই সংস্থার উপর নৌবাহিনীর আস্থা অটুট থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মাঝে ‘অঞ্জদীপ’ রণতরীর অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় নৌসেনার শক্তি ও প্রস্তুতিকে আরও দৃঢ় করল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজ ভবিষ্যতে উপকূল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।












