বং হান্ট: ২০১৩ সালের কেদারনাথের বিধ্বংসী বন্যায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই সময় নিখোঁজদের তালিকায় ছিল শিবমের নামও। বহু বছর ধরে তাঁর কোনও খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নেয়, তিনি আর বেঁচে নেই। ধর্মীয় নিয়ম মেনে তাঁর শ্রাদ্ধ ও সৎকারও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে, ১২ বছর পর জানা গেল—শিবম আসলে জীবিত। মহারাষ্ট্রের সাম্ভাজীনগরে মেলে তাঁর সন্ধান।
কীভাবে জানা গেল শিবম জীবিত?
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালে সাম্ভাজীনগরের একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে থাকতেন শিবম। তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁর নাম উঠে আসে। পুলিশ তাঁকে আদালতে পেশ করলে বিচারক তাঁর মানসিক সমস্যার কারণে তাঁকে পুণের মেন্টাল হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে বিচারক স্পষ্ট জানান, চুরির ঘটনার সঙ্গে শিবমের কোনও যোগ নেই। হাসপাতাল তাঁকে ছাড়পত্র দেয়। এখান থেকেই শুরু হয় আসল অনুসন্ধান—কে তিনি? কোথা থেকে এসেছেন?
পরিচয়ের প্রথম ক্লু
রামএইচ হাসপাতালের সোশ্যাল সার্ভিস সুপারিন্টেনডেন্ট রোহিণী ভোসলে জানান, শিবম পাহাড়ি ভাষায় কথা বলতেন এবং পোলিও আক্রান্ত হওয়ায় চলাফেরায় সমস্যা ছিল। তাঁর আচরণ দেখে মনে হয়নি তিনি কোনও চুরির ঘটনার সাথে জড়িত হতে পারেন।
২০২৩ সালে হঠাৎই তাঁর মনে পড়ে এক নাম—‘প্রেম বিদ্যালয়, রুরকী’। এটিই হয় প্রথম সূত্র। রুরকী থানায় যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকেই শিবমের পরিবারের ঠিকানা মেলে।
১২ বছর পর ঘরে ফেরা
দীর্ঘ মানসিক অসুস্থতা, ভুল পরিচয় এবং অসংখ্য বিভ্রান্তির পর অবশেষে ৫ নভেম্বর শিবম তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। বয়স এখন ৫৫। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনি Disorganized Schizophrenia রোগে ভুগছেন, এই রোগে মানুষের চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম বিশৃঙ্খল হয়ে যায়।
বর্তমানে তাঁর পরিবার তাঁকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছে এবং তাঁরা আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ১২ বছর পর এক মৃত ভেবে নেওয়া মানুষের ফিরে আসা যেন সিনেমার গল্পের মতো।
উপসংহার
কেদারনাথের বন্যার পর বহু মানুষ আজও নিখোঁজ—তাদের অনেকের সঠিক খোঁজ মিলেওনি। শিবমের ঘটনা দেখিয়ে দিল, নিখোঁজদের গল্প সবসময় শেষ হয়ে যায় না। ভাগ্য কখনও কখনও অপ্রত্যাশিতভাবেই মানুষকে ঘরে ফিরিয়ে আনে।












